পটপটি ফুল Ruellia Tuberosa

                           পটপটি ফুল Ruellia Tuberosa Wild Petunia

ভূমিকা:

পটপটি (রুয়েলিয়া) মূলত petunia জাতীয় এক প্রকারের বনফুল। কিন্তু সৌন্দর্যের কারণে বিশ্বজুড়ে শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে এই ফুল চাষ করা হয়ে থাকে। আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। ষোড়শ শতাব্দিতে বাংলাদেশে আসে। এ ফুলের রঙ হালকা বেগুনি। পাপড়ির উপরের অংশ পাঁচ ভাগে বিভক্ত বর্ষজীবী এই গুল্মের শিকড় বেশ মোটা ও শক্ত। বেগুনি রঙের এ ফুল যে কারো মন নাড়িয়ে দেয়। অনেকে শখ করে বাড়ির ছাদে টবে রুয়েলিয়া গাছ লাগিয়ে থাকেন।

নামকরণ:

১৫শতকের প্রখ্যাত ফরাসি চিকিৎসক, ভেষজবিদ, উদ্ভিদবিজ্ঞানী জিন রুয়েল বা আইওনেস রুয়েলিয়াস এর নামানুসারে এই ফুলের নাম করণ হয়েছে (1536 সালে প্যারিসে প্রকাশিত উদ্ভিদবিদ্যার একটি রেনেসাঁ গ্রন্থ ডি ন্যাটুরা স্টির্পিয়ামের প্রকাশনার জন্য তিনি অবিস্মরণীয়।

বিজ্ঞান ভিত্তিক নাম: Ruellia Tuberosa

ইংরেজী নাম: Wild petunia, Minnieroot, fever root, snapdragon root, sheep potato, popping pod, duppy gun, cracker plant নামে পরিচিত

ফুলটি গ্রাম বাংলায় ফুলটি পটপটি, চটপটি নামে পরিচিত । আপনার এলাকায় ফুলটি কি নামে পরিচিত জানাতে ঝটপট কমেন্ট করে জানান

প্রকৃতি, আবাসস্থাল ও বিস্তৃতি:

এই ফুল ফোটে সকালবেলা এবং দুপুর হলেই ঝরে পড়ে। সকালে ফোঁটে বলে এই ফুলকে মর্নিং গ্লোরি বলা হয়ে থাকে। তুলনামূলক আর্দ্র-ছায়া মিশ্রিত পরিবেশে ভালো জন্মায়পটপটি লাজুক প্রকৃতির ফুল, সাধারণত দলবেঁধে থাকতে পছন্দ করে; তাই যেখানে ফুল গাছ জন্মে সেখানে অনেক গাছ একসাথে দেখা যায়। বাংলাদেশে আমাদের বাড়ীর আশে-পাশের ঝোঁপ ঝাড়ে, রাস্তার ধারে সারাবছর বুনো এই ফুলের দেখা মেলে

গাছ, ফুল ও ফলের আকৃতি:

গুল্ম জাতীয় এই গাছের উচ্চতা ০.৫-২ ফুট হয়ে থাকে। ফুলের আকৃতি ১.৫-২ ইঞ্চি। ফলের আকার সে.মি (. ইঞ্চি) লম্বা। ফল পরিপক্ক হওয়ার পর জলের সংস্পর্শে এলে শব্দ করে ফেটে যায় বীজ ছড়িয়ে পরে

ঔষধি, ভেষজ গুণ ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত:

রুয়েলিয়া জনপ্রিয় শোভাময় উদ্ভিদ। কিছু প্রজাতির রুয়েলিয়া মানুষের জন্য ঔষধি গাছ হিসাবে ব্যবহৃত হলেও অধিকাংশ প্রজাতি বিষাক্ত বলে পরিচিত বা সন্দেহ করা হয়। রুয়েলিযার পাতা বেশ কয়েক প্রজাপতি, মথ, শুঁয়োপোকা (লেপিডোপ্টেরা) খাদ্য রুয়েলিয়াকে হোস্ট উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহার করে এবং বংশ্ববিস্তারের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করে।

 রুয়েলিয়ার প্রজাতি সমূহ:

রুয়েলিয়া হল অ্যাকান্থাস (Acanthaceae) গোত্রের অন্তর্ভূক্ত একটি পরিবার যার অধীন পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৩৬৫ প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এই প্রজাতি সমূহকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যায়।

বুনো ভায়োলেট বা নীল পিটুনিয়া (পি. ইন্টিগ্রি-ফোলিয়া) আদি আবাসস্থল হলো আর্জেন্টিনা। এছাড়া উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া এবং ব্রাজিলের নাতিশীতোষ্ণ এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলে সাদা পিটুনিয়া (পি. অ্যাক্সিলারিস) আদি আবাস। সাধারণ বাগানের পেটুনিয়া (যা পেটুনিয়া হাইব্রিডা নামে পরিচিত), এই নীল পিটুনিয়া (পি. ইন্টিগ্রি-ফোলিয়া) এবং  নীল পিটুনিয়া (পি. ইন্টিগ্রি-ফোলিয়া) থেকে শংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভূত হয়েছে

Morphological diversity of species of Ruellia used in this study. (a) Ruellia breedlovei. (b) Ruellia macrantha. (c) Ruellia elegans. (d) Ruellia lutea. (e) Ruellia matudae. (f) Ruellia morongii. (g) Ruellia californica. (h) Ruellia hirsutoglandulosa. (i) Ruellia saccata. (j) Ruellia speciosa. (k) Ruellia longipedunculata

আমাদের রাজশাহী এলাকায় দুইটি প্রজাতি: একটি বুনো Wild Pitunia এবং অপরটি নার্সারীতে প্রাপ্ত উন্নত জাত Mexican Pitunia বা Ruellia Simplex 


Reels Voice

এটি একটি বুনোফুল

ইংরেজী নাম: Wild petunia, Minnieroot, fever root, snapdragon root, sheep potato, popping pod, duppy gun, cracker plant নামেও পরিচিত

বিজ্ঞান ভিত্তিক নাম: Ruellia Tuberosa


বাংলায় ফুলটি চটপটি বা পটপটি,  নামে পরিচিত

রুয়েলিয়ার গুনাগুণ জানলে আপনি অবাক হবেন

রুয়েলিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অনুগ্রহ করে আমাদের Facebook PageYoutube Channel       

Like, Share, Comment

Follow,ও Subscribe করুন      ধন্যবাদ


Post a Comment

Previous Post Next Post